দেশভাগের সময় পাবনার কিছু মানুষ ওপারের নদে জেলার চাকদহ নামে একটা মফস্বল শহরে জড় হয় জীবন কে একটু প্রশান্তি দিতে, ভারত সরকারের আশ্রয় পেতে।
এরপর বহুদশক কেটে গেছে। থেকে গেছে কিছু পরিবার। তারপর চাকদহের ঐ একটা জায়গার নামই হয়ে গিয়েছে পাবনা কলোনি। আজও সবাই একডাকে চেনে। একটা স্কুল আছে ঐ পাড়াতে। চাকদহ কো-অপারেটিভ কলোনী বিদ্যায়তন।
আমি সবে ভর্তি হয়েছি। সব কিছু নতুন লাগে। ভাষাতে আলাদা একটা মজা নেয় সবাই। আমার স কে চ বলা বাংলা সহজে আয়ত্ত হচ্ছিল না। ইস্কুল শব্দটা কিছুতেই স্কুল হচ্ছিল না। স্টেশান কে টেশান বানাতেও লাগিয়েছি কয়েক মাস।
ততদিনে স্পেশালকে পেশাল বলতে শিখে গেছি। ওখানকার সেশন শুরুহয় এপ্রিলে। আমি তখন ওপারের আনন্দঘন আগষ্ট কাটাচ্ছি।
কয়েকদিন পর ভারতের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্টান করা হবে স্কুল ক্যাম্পাসে। নতুন হলেও বরাবরের মত সহজ সারল্যতা দিয়ে, অধ্যবসায় দিয়ে স্যারদেরকে আপন করে নিলাম, স্যাররাও। তাই আমার ওপর অতিবিশ্বাসী বা আশাবাদী স্যার দিনেশ সিংহ রায় আমায় ঐ অনুষ্টানে বক্তব্য দেওয়ার প্ররোচনা দিলেন।
তার আগেই এসে গেল হিরোসিমা ও নাগাসাকি দিবস। এরপর শহিদ #ক্ষুদিরামের মৃত্যুবার্ষিকী।
খুব স্পষ্ট মনে আছে আমাদের ইংরেজী স্যার পার্থ সারথি ভট্টাচার্য তাঁর স্বভাবসুলভ ক্ষীণ এবং মৃদু কন্ঠে বলে গেলেন,
"ঠিক তোমাদের মত বয়সেই যেহেতু ক্ষুদিরাম দেশ মাতাকে রক্ষায় বোমা হামলা চালায় তার জন্যে, তার ঐ বয়সে দেশপ্রেমী হবার জন্যে অনেকেই বলে থাকেন ওর পেছনে অন্য কারো হাত ছিল যে বা যারা তাকে প্ররোচিত করে কাজ হাশিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার প্রিয় ছাত্র ছাত্রী তোমরা কি জান ফাসির আদেশ হওয়ার পর ক্ষুদিরাম কী বলেছিল? তোমাদের অবশ্য জানার কথাও না। ক্ষুদিরাম বলেছিল যদি আরেকটা জনম সে পায় তবে যেন ভারত মাতার কোলেই সে ফিরে আসে আর সেবারও যেন ভারত মাতাকে রক্ষা করতে জীবন উত্সর্গ করার সুযোগ পায়।"
হ্যাঁ ঐদিনই শহিদ ক্ষুদিরামের দেশপ্রেম কতটা আন্তরিক ছিল তা বুঝতে পেরেছিলাম।
তুমি আরেকটিবার ফিরে এসো ক্ষুদিরাম এই বাংলাদেশে। ফিরে এসো আমি হয়ে অথবা অন্য কেউ হয়ে। তোমার উপস্থিতি আরেকটি বার প্রয়োজন।
No comments:
Post a Comment