12/31/15

"কাজ থুয়ে মারে মাছ বিধি লাগে তার পাছ"।

১।
আমার বাবা মাছ ধরার পোঁকা ছিল। এখনো সুযোগ পেলেই মাছ ধরতে যায়। মাঝে মাঝে সুযোগ করে মাছ ধরতে যায়। দাদু খুব রাগ করত। মাছ ধরা দাদুর খুব অপছন্দের ছিল। তার ছেলে হয়ে বাবা মাছ ধরতে যাবে এটা ছিল দাদুর জন্যে রাগ-ক্ষোভ, মাঝে মাঝে অভিমানের কারণ। দাদু বছর পাঁচেক আগে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টার পর মোটামুটি সুস্থ হলেও আগের মত আর রাগারাগি করার শক্তি দাদুর নেই। তারপরও বাবা মাছ ধরতে যায় চুপিচুপি। এমনও হয়েছে বাবা মাছ ধরতে গেছে কিন্তু মাছ আর বাড়ি আনে নি। রাস্তায় কাউকে দিয়ে দিয়েছে। মা-ও কিছুটা দায়ী বটে। বাবা মাছ ধরতে যাক মা কম পছন্দ করে। কে শোনে কার কথা, আজও বাবা মাছ ধরতে গিয়েছিল। নিজে দেখে এসেছি। মাছ পেয়েছিলও, বাড়ি আনে নি। আমাকে বলল আবার ছেড়ে দিয়েছে নদীতে *_*

দাদুর একটা কথা মনে পড়ে। বর্ষার দিন হলেই আমরা লাফাতাম মাছ ধরতে যাব বলে। দাদু হয়ত পাটের আঁশ নিয়ে বসেছে গরুর দড়ি বা গৃহস্থালি কাজের জন্যে দড়ি তৈরি করতে, দড়ি ঘুরিয়ে দেবার জন্যে একজন লোক লাগত। মাঝে মাঝে আমি বা মানিক সে দায়িত্ব পালন করতাম ভাগ করে। মাছ ধরতে যাবার কথা পাড়তেই দাদু বলত,
"কাজ থুয়ে মারে মাছ
বিধি লাগে তার পাছ"।
অর্থাৎ কাজ ফেলে রেখে মাছ ধরতে গেলে ভাগ্যবিধাতা বা সৃষ্টিকর্তা কাজ ফেলে রাখা ব্যক্তির ক্ষতি করে। কুসংস্কার বলি আর যাই বলি না কেন গ্রামের শতভাগ বয়স্ক মানুষ এটা বিশ্বাস করে। আমার ঠাকুমার মুখেও একথা আমি বহুবার শুনেছি।

২।
আজ সারাদিনই আমি মাছ ধরার জন্যে ঘুরে বেড়িয়েছি। প্রথমে গেছি বিলের জল নামার জন্যে খাল আছে একটা তার সুইচ(স্লুইস না কী যেন বলে ঠিক জানি না) গেটের কাছে। চন্দনের সাথে। খেপলা জাল নিয়ে। আমি আর চন্দন। আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই খেপলা জাল ফেলার। চন্দন টুকটাক পারে। ও-ই ভরসা। গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। বিশ জনের বেশি জাল হাতে শখের, পেশাদার মাছ ধরুয়া। কোন মতে একটা খেপ ফেলা হল। নিরাশ হতে হল না। উঠল একটা পুঁটি। বেশ বড়। সবার যেখানে একবারে বিশ ত্রিশটা উঠছে আমাদের একটা ওঠাতেই আমরা খুশি। :-D
আবার জাল ফেলা হল। এবার মাছ বাবাজীরা আমাদের কাঁচকলা দেখাল। পাশ থেকে আমাদের চন্দ্রবদন দেখে এক কাকা মন্তব্য করল আমাদের উচিৎ হবে স্নান করে সুন্দর জামাকাপড় পরে রাস্তায় র্যাম্পওয়াক করা :'(
আতে ঘা লাগল একটু। চলে আসলাম ওখান থেকে। এগিয়ে গিয়ে অনেক কসরত করে আরেকটি মাছ পেলাম। আর এগুনো ঠিক হবেনা বুঝে মানে মানে কেটে পড়লাম *_*

এরপর হাত-পা ধুতে নামলাম রাজুদের পুকুরে। ওখানে দেখি বড়শি দিয়ে মাছ ধরছে। এক পিচ্চির থেকে ছিপটা চেয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সবাই পুঁটি পাচ্ছিল, আমি একটা ট্যাংরা পেয়ে নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম খুব :-D কিন্তু মাছটা ছুটে গেল :'(
এরপর আরো দুটো পুঁটি পেয়েছিলাম। সাইজ দেখে আর থাকতে ভাল লাগল না।

দুপুরে আকাশের সাথে এডভেঞ্চারের নাম করে বেরলাম। বাজারে গিয়ে আবার মাথায় ভুত চাপল। বড়শি তৈরির যন্ত্রপাতি কিনে একজনের দিয়ে খাসা একটা বড়শি তৈরি করলাম। বাকি থাকল মাছের খাদ্য আর বড়শির লাঠি। কুমার নদে নেমে গেলাম। ছবি তোলার ফাকে দেখি এক পিচ্চি জলে দাঁড়িয়ে মাছ ধরছে। ওর থেকে আটা নিলাম চেয়ে। আটায় দেখি পিঁপড়ার ডিম দেওয়া। পাশেই পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছিল কিছু লোক। ওখান থেকে পাটকাঠি নিলাম একটা। বড়শি পুরোপুরি তৈরি। একটা নৌকা পেয়ে জলে পা ডুবিয়ে বসে পড়লাম। যা হবার তাই হল। মাছের কোন দেখা নেই। বন্ধু রিপন স্নান করতে এসে আমাকে দেখে অবাক। বলে এভাবে হবে না। বেচারা জলে নেমে সুন্দর করে একটা জায়গা পরিস্কার করে দিল। নৌকা নিয়ে গেলাম সেখানে। ফলাফলে কোন পরিবর্তন নেই। কোন মাছ পেলাম না। রাগ-অভিমানে ফিরছি এমন সময় দেখি বাবা একটা ছোট নৌকায় মাছ ধরছে। আমাকে দেখে বলে বাবা মাছ ধরতে এসেছ বুঝি। :O
আমি কী বলব ভেবে না পেয়ে চলে আসলাম।

রাস্তায় এসে লিজ নেওয়া পুকুর পাড়ে এসে ভাবলাম এখান থেকেই মাছ ধরি কিছু। আবার ভাবলাম না। এভাবে গেল গা আজকের মাছ ধরার কাহিনী। ভাবছি কাল আবার যাব। সব গুছিয়ে, একেবারে প্রস্তুত হয়ে যাব। দেখি মাছের একদিন নাকি আমার যে কয়দিন লাগে *_*

#বাবা খেতে ডাকছে। আজ আর হল না লেখা। দাবা খেলা আর কাব্যর দুষ্টামির কথা না লিখলে অপরাধী হয়ে যাব নিজের কাছে :'(
খেলা যখনই জমে যায় কাব্য এসে একটানে ছত্রভঙ্গ করে দেয় *_*

২৪/০৯/২০১৫

12/23/15

জ্বলে থাকে যে তারা

আসছে শরতে নিকষ কালো
স্বচ্ছ অমবশ্যায় মাঝ নদীতে
পাতাবাহারের মত ভাসতে ভাসতে
আজকের আকাশের তারা কি দেখতে পাব?

অনিশ্চয়তা খেলা করে চোখে-মুখে-বুকে
কতশতবার তবু
তারারা থামে না
আলো খেলা ছাড়ে না
'জ্বালা দিতে মালা নিতে,,,,'

বসে থাকে জৈষ্ঠ্যের ঝড় কখনো?
তোমার আকাশে কখনো ওঠে ঝড়?
পাখি সব মরে পড়ে থাকে কাশবনে
দেখতে গিয়েছি গত শতাব্দীর চারদেয়াল
পেরিয়ে একা একা;
চলছি,,,,,,

12/18/15

একজন আরজ আলী মাতুব্বর ও কিছু কথা

",,,,আরজ আলী মাতুব্বর শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের অহংকার ও আত্মতৃপ্তিকে শক্ত হাতে নাড়িয়ে দিয়েছেন।"
--হাসনাত আবদুল হাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বসে আছি। ক্লাস শেষে রোজই বসি। সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্ক পীড়া দেয়। চুপচাপ বই পড়ি এসে। কৈশোর পার হলেও ভাবটা যেন রয়ে গেছে। মনে আছে প্রথম বইটা ছিল জহীর রায়হানের 'আরেক ফালগুন'।

বাংলা সাহিত্যের শেলফ গুলোতে আমার চারণ বাড়তে থাকে। চয়ন হয় কত বই, পড়া হয় কতক। গোগ্রাসে ক'দিন শরদিন্দু আর সুনীল গিললাম। আক্ষরিক অর্থেই।

বইয়ের এ শেলফ থেকে ও শেলফ করতে করতে চোখে পড়ল আরজ আলী মাতুব্বর সমগ্র। চোখটা কুঁচকে তাকালাম। এ আবার কেমন নাম। এমন নামের লেখকের আবার সমগ্রও আছে!( আমি নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারিনে এমন চিন্তা করেছিলাম দেখে। নাম, মোলাট এসব দেখে বই, লেখক বিচার করা অমানুষের কাজ। 😫) যাই হোক সে বই আর ছুঁয়ে দেখলাম না।

এভাবে কেটে গেল বেশ কিছু মাস। সময় যায়, লাইব্রেরিতে যাই। কখনো রেফারেন্স রুমে তো কখনো সাহিত্য কর্নারে। আরজ আলী মাতুব্বরের কথা আর মনে পড়ে নি। তখনও মনে পড়ার মত যৌক্তিক কারণ এ অপরিণত মস্তিস্ক পায় নি।

একদিন। খুব মনে আছে। ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখি। আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে। মনে পড়ে যায় লাইব্রেরির সেই ঘটনা। একটানে পড়ে ফেলি। থমকে যাই। স্বশিক্ষিত এমন জ্ঞানী মানুষ সম্পর্কে সেদিন মনে জাগ্রত নিচু চিন্তা আমাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে থাকে। সাথে সাথে অভ্যাসবশত গুগোলে খুঁজি। যা পাই তাই পড়ি। আর ভাবি।

সন্ধ্যায় শহিদ মিনারে বসে আছি চুপচাপ। আগষ্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ। খুঁজে খুঁজে আরজ আলী সমগ্র পেলাম। পিডিএফ। তর সইছিল না। টানাপায়ে রুমে এসেই বেলকনিতে বসি।

ঘোর লেগে যাচ্ছে। মুহম্মদ শামসুল হকের জবানীতে প্রথমে আরজ আলী মাতুব্বরের জীবনী পড়ি। চরম থ্রিলার পড়লে যে অনুভূতিতে গায়ের রোম খাড়া হয় ঠিক তেমন ভাবে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। পড়তে হবে। লেখকের মূল লেখায় যাবার ত্বর সইছিল না, এদিকে শামসুল হকের লেখাও শেষ না করে ছাড়তে পারছিলাম না। বরিশাল কলেজ, দুজন শিক্ষক, একজন আরজ আলী, একজন বিদেশ ফেরৎ যুবক, প্রশাসনের হুমকি, পালিয়ে বই ছাপা,,,,,, ঘোর রেগে যাচ্ছিল।

কেরোসিনের ল্যাম্প দিয়ে যান্ত্রিক পাখা, বাঁশ পুড়িয়ে বাঁশি বানাতে পারা মাটির মানুষ আরজ আলীর ভক্ত হতে শুরু করলাম তাঁর লেখা না পড়েই। উত্তেজনায় সেদিন আর পড়া এগোল না।

পরদিন বন্ধুর মেসে গেছি এসাইনমেন্ট করতে। কথায় কথায় গল্প করছি। আরজ আলী সম্পর্কে শামসুল হকের লেখা 'কিছু কথা, কিছু স্মৃতি' সেদিনের গল্পের উপকরণ। কখন সকাল হল মনে নেই! সারারাত কেটে গেল। এসাইনমেন্ট আর করা হল না।

পড়ে ফেললাম 'সত্যের সন্ধান'। আরজ আলীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। জীবনের সত্তর বছর লাইব্রেরিতে কাটানো এই মানুষটা তাঁর প্রথম বইটি প্রকাশ করেন লেখার দুই যুগ পর। তাঁর জ্ঞান সাধনার সূত্রপাত বড় বেদনার। মা মারা যাবার পর ছবি তোলা হয়। ঘটনাটা গ্রামের মানুষ ভালভাবে নেয় না। মায়ের জানাজায় আসে নি গ্রামের মানুষ। কিশোর আরজের মনে পড়ে গভীর ছাপ। শুরু করেন সত্যের সন্ধান।

প্রশ্ন করা শুরু করেন। সমাজ, ধর্ম, কুসংস্কার নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর জানতে কঠোর লেখাপড়ায় ব্রতী হন। প্রতিটা প্রশ্ন তিনি বিচার করতেন ধর্ম ও বিজ্ঞানের সহাবস্থানিক বিবেচনায় এনে। আরজ আলী খেয়াল করলেন বিজ্ঞানই সত্য; ধর্মের ব্যাখ্যা কেবলই গালগল্প আর অন্ধবিশ্বাস।

সত্যের সন্ধান শিরোনামের নিচে লেখক আরেকটি শিরোনাম দিয়েছেন, 'লৌকিক দর্শন'। লোক সমাজে প্রচলিত অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের দিকেই ছিল তাঁর প্রশ্নবান। হয়ত তার জন্যেই এমন নাম।

মুখবন্ধে তিনি লিখেছিলেনঃ “আমি অনেক কিছুই ভাবছি, আমার মন প্রশ্নে ভরপুর কিন্তু এলোমেলোভাবে। আমি তখন প্রশ্নের সংক্ষেপণ লিখতে থাকি, বই লেখার জন্য নয় শুধুমাত্র পরবর্তীতে মনে করার জন্য। অসীম সমুদ্রের মতন সেই প্রশ্নগুলো আমার মনে গেঁথে আছে এবং আমি ধীরে ধীরে ধর্মীয় গন্ডি হতে বের হতে থাকি।”

তিনি এই বইটিতে দার্শনিক প্রশ্নগুলোর ৬টি শ্রেণীতে তার প্রশ্ন ও তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সেগুলো হলোঃ

প্রথম প্রস্তাবঃ আত্মা বিষয়ক। এই অংশে ৮টি প্রশ্ন।
দ্বিতীয় প্রস্তাবঃ ঈশ্বর বিষয়ক। এই অংশে ১১টি প্রশ্ন।
তৃতীয় প্রস্তাবঃ পরকাল বিষয়ক। এই অংশে ৭টি প্রশ্ন।
চতুর্থ প্রস্তাবঃ ধর্ম বিষয়ক। এই অংশে ২২টি প্রশ্ন।
পঞ্চম প্রস্তাবঃ প্রকৃতি বিষয়ক। এই অংশে ১১ টি প্রশ্ন।
ষষ্ঠ প্রস্তাবঃ বিবিধ। এই অংশে ৯টি প্রশ্ন।

প্রথম আটটি প্রশ্নে তিনি নিজের ভাবভঙ্গি ব্যক্ত করেন। যেমন -
১। আমি কে? (নিজ)
২। জীবন কি শরীরী বা অপার্থিব?
৩। মন এবং আত্মা কি একই জিনিস?
৪। জীবনের সাথে শরীর বা মনের সম্পর্ক কি?
৫। আমরা কি জীবনকে চিহ্নিত করতে পারি?
৬। আমি কি মুক্ত?
৭। মরণোত্তর আত্মা শরীর বিহীন জ্ঞান ধারণ করে? এবং সর্বশেষ,
৮। কিভাবে শরীররে আত্মা প্রবেশ করে ও বের হয়?

ঈশ্বর বিষয়ক অধ্যায়ের প্রশ্ন গুলো এমন
১। ঈশ্বরের রূপ কী? (ঈশ্বর শব্দের সমার্থক শব্দ নিজ দ্বায়িত্বে বসিয়ে নেবেন। কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগুক তা চাইনে।)
২। তিনি কি মনুষ্য ভাবাপন্ন?
৩। স্রষ্টা কি সৃষ্টি হতেই ভিন্ন?
৪। ঈশ্বর কি স্বচ্ছাচারী না নিয়মতান্ত্রিক?
৫। তিনি ন্যায়বান না দয়ালু?
"অন্যান্য ক্ষেত্রে যাহাই হউক না কেন, বিচার ক্ষেত্রে 'ন্যায়' ও 'দয়া' এর সমাবেশ অসম্ভব। কেননা দয়া করিলে ন্যায়কে উপেক্ষা করিতে হইবে এবং ন্যায় বজায় রাখিতে হউলে মায়া বিসর্জন দিতে হইবে।" বলা হয়ে থাকে ঈশ্বর(সমার্ধক বসিয়ে নিন) ন্যায়বান ও দয়ালু। কিভাবে সম্ভব? তবে কি তিনি কিছু ক্ষেত্রে ন্যায়বান কিছু ক্ষেত্রে দয়ালু?
৬। ঈশ্বরের অনিচ্ছায় কোন ঘটনা ঘটে কি?
৭। নিরাকারের(আত্মা) সাথে নিরাকারের(পরমাত্মা) পার্থক্য কী?
৮।নিরাকার পদার্থ দৃষ্টিগোচর হয় কিভাবে?
৯। স্থান, কাল ও শক্তি সৃষ্ট না অসৃষ্ট?
১০। সৃষ্টি যুগের পূর্বে কোন যুগ?
১১। ঈশ্বর কি দয়াময়?

#অনেকদিন ধরেই ভাবছি লিখব। আলস্যের কারণে হয়ে ওঠে না। আজ শিক্ষক, দার্শনিক, উদ্ভাবক আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বন্ধু। আমাকে তুমি প্রশ্ন করার সাহস দিয়েছ।

(চলবে,,,,,)

12/9/15

**অনুভব**

ইটেরাস্তায় হাঁটাহাঁটি
সেই যে তোমাদের অলিপথ
কাকের শব্দে পায়ে ত্বরা পাই
আনমনে হাঁটছি কতক্ষণ!

বাথরুমের ঘুলঘুলি বেয়ে
তোমার স্নানের ঘ্রাণ
আমার নাসারন্ধ্র কাঁপিয়ে যায়

আবার কাকের ডাক
থমকে যাই এবার

আচ্ছা, আমরা কখনো কাক হতে চেয়েছি?
অথবা কাকের মত স্বরে করেছি কি কিছু গান?
ভালবাসায় কাকের ডাকেও শান্তি ছিল
থাকে

তোমার চলে যাওয়ার পথে আজও কাক ডাকে
হাঁটি হাতে-মাথায়-বুকে কাক ডাকের একগুচ্ছ ইচ্ছে নিয়ে
তোমাদের অলিপথে
গলিপথে

তোমাদের পাড়ার ইটেরাস্তায়
চেনা কত ইটের দঙ্গলে ঢাকা
তোমার নতুন খেরোখাতার খেলাঘরের
আশেপাশের অলিপথে
গলিপথে।

**অনুভব**

ইটেরাস্তায় হাঁটাহাঁটি
সেই যে তোমাদের অলিপথ
কাকের শব্দে পায়ে ত্বরা পাই
আনমনে হাঁটছি কতক্ষণ!

বাথরুমের ঘুলঘুলি বেয়ে
তোমার স্নানের ঘ্রাণ
আমার নাসারন্ধ্র কাঁপিয়ে যায়

আবার কাকের ডাক
থমকে যাই এবার

আচ্ছা, আমরা কখনো কাক হতে চেয়েছি?
অথবা কাকের মত স্বরে করেছি কি কিছু গান?
ভালবাসায় কাকের ডাকেও শান্তি ছিল
থাকে

তোমার চলে যাওয়ার পথে আজও কাক ডাকে
হাঁটি হাতে-মাথায়-বুকে কাক ডাকের একগুচ্ছ ইচ্ছে নিয়ে
তোমাদের অলিপথে
গলিপথে

তোমাদের পাড়ার ইটেরাস্তায়
চেনা কত ইটের দঙ্গলে ঢাকা
তোমার নতুন খেরোখাতার খেলাঘরের
আশেপাশের অলিপথে
গলিপথে।