12/31/15

"কাজ থুয়ে মারে মাছ বিধি লাগে তার পাছ"।

১।
আমার বাবা মাছ ধরার পোঁকা ছিল। এখনো সুযোগ পেলেই মাছ ধরতে যায়। মাঝে মাঝে সুযোগ করে মাছ ধরতে যায়। দাদু খুব রাগ করত। মাছ ধরা দাদুর খুব অপছন্দের ছিল। তার ছেলে হয়ে বাবা মাছ ধরতে যাবে এটা ছিল দাদুর জন্যে রাগ-ক্ষোভ, মাঝে মাঝে অভিমানের কারণ। দাদু বছর পাঁচেক আগে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টার পর মোটামুটি সুস্থ হলেও আগের মত আর রাগারাগি করার শক্তি দাদুর নেই। তারপরও বাবা মাছ ধরতে যায় চুপিচুপি। এমনও হয়েছে বাবা মাছ ধরতে গেছে কিন্তু মাছ আর বাড়ি আনে নি। রাস্তায় কাউকে দিয়ে দিয়েছে। মা-ও কিছুটা দায়ী বটে। বাবা মাছ ধরতে যাক মা কম পছন্দ করে। কে শোনে কার কথা, আজও বাবা মাছ ধরতে গিয়েছিল। নিজে দেখে এসেছি। মাছ পেয়েছিলও, বাড়ি আনে নি। আমাকে বলল আবার ছেড়ে দিয়েছে নদীতে *_*

দাদুর একটা কথা মনে পড়ে। বর্ষার দিন হলেই আমরা লাফাতাম মাছ ধরতে যাব বলে। দাদু হয়ত পাটের আঁশ নিয়ে বসেছে গরুর দড়ি বা গৃহস্থালি কাজের জন্যে দড়ি তৈরি করতে, দড়ি ঘুরিয়ে দেবার জন্যে একজন লোক লাগত। মাঝে মাঝে আমি বা মানিক সে দায়িত্ব পালন করতাম ভাগ করে। মাছ ধরতে যাবার কথা পাড়তেই দাদু বলত,
"কাজ থুয়ে মারে মাছ
বিধি লাগে তার পাছ"।
অর্থাৎ কাজ ফেলে রেখে মাছ ধরতে গেলে ভাগ্যবিধাতা বা সৃষ্টিকর্তা কাজ ফেলে রাখা ব্যক্তির ক্ষতি করে। কুসংস্কার বলি আর যাই বলি না কেন গ্রামের শতভাগ বয়স্ক মানুষ এটা বিশ্বাস করে। আমার ঠাকুমার মুখেও একথা আমি বহুবার শুনেছি।

২।
আজ সারাদিনই আমি মাছ ধরার জন্যে ঘুরে বেড়িয়েছি। প্রথমে গেছি বিলের জল নামার জন্যে খাল আছে একটা তার সুইচ(স্লুইস না কী যেন বলে ঠিক জানি না) গেটের কাছে। চন্দনের সাথে। খেপলা জাল নিয়ে। আমি আর চন্দন। আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই খেপলা জাল ফেলার। চন্দন টুকটাক পারে। ও-ই ভরসা। গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। বিশ জনের বেশি জাল হাতে শখের, পেশাদার মাছ ধরুয়া। কোন মতে একটা খেপ ফেলা হল। নিরাশ হতে হল না। উঠল একটা পুঁটি। বেশ বড়। সবার যেখানে একবারে বিশ ত্রিশটা উঠছে আমাদের একটা ওঠাতেই আমরা খুশি। :-D
আবার জাল ফেলা হল। এবার মাছ বাবাজীরা আমাদের কাঁচকলা দেখাল। পাশ থেকে আমাদের চন্দ্রবদন দেখে এক কাকা মন্তব্য করল আমাদের উচিৎ হবে স্নান করে সুন্দর জামাকাপড় পরে রাস্তায় র্যাম্পওয়াক করা :'(
আতে ঘা লাগল একটু। চলে আসলাম ওখান থেকে। এগিয়ে গিয়ে অনেক কসরত করে আরেকটি মাছ পেলাম। আর এগুনো ঠিক হবেনা বুঝে মানে মানে কেটে পড়লাম *_*

এরপর হাত-পা ধুতে নামলাম রাজুদের পুকুরে। ওখানে দেখি বড়শি দিয়ে মাছ ধরছে। এক পিচ্চির থেকে ছিপটা চেয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সবাই পুঁটি পাচ্ছিল, আমি একটা ট্যাংরা পেয়ে নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম খুব :-D কিন্তু মাছটা ছুটে গেল :'(
এরপর আরো দুটো পুঁটি পেয়েছিলাম। সাইজ দেখে আর থাকতে ভাল লাগল না।

দুপুরে আকাশের সাথে এডভেঞ্চারের নাম করে বেরলাম। বাজারে গিয়ে আবার মাথায় ভুত চাপল। বড়শি তৈরির যন্ত্রপাতি কিনে একজনের দিয়ে খাসা একটা বড়শি তৈরি করলাম। বাকি থাকল মাছের খাদ্য আর বড়শির লাঠি। কুমার নদে নেমে গেলাম। ছবি তোলার ফাকে দেখি এক পিচ্চি জলে দাঁড়িয়ে মাছ ধরছে। ওর থেকে আটা নিলাম চেয়ে। আটায় দেখি পিঁপড়ার ডিম দেওয়া। পাশেই পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছিল কিছু লোক। ওখান থেকে পাটকাঠি নিলাম একটা। বড়শি পুরোপুরি তৈরি। একটা নৌকা পেয়ে জলে পা ডুবিয়ে বসে পড়লাম। যা হবার তাই হল। মাছের কোন দেখা নেই। বন্ধু রিপন স্নান করতে এসে আমাকে দেখে অবাক। বলে এভাবে হবে না। বেচারা জলে নেমে সুন্দর করে একটা জায়গা পরিস্কার করে দিল। নৌকা নিয়ে গেলাম সেখানে। ফলাফলে কোন পরিবর্তন নেই। কোন মাছ পেলাম না। রাগ-অভিমানে ফিরছি এমন সময় দেখি বাবা একটা ছোট নৌকায় মাছ ধরছে। আমাকে দেখে বলে বাবা মাছ ধরতে এসেছ বুঝি। :O
আমি কী বলব ভেবে না পেয়ে চলে আসলাম।

রাস্তায় এসে লিজ নেওয়া পুকুর পাড়ে এসে ভাবলাম এখান থেকেই মাছ ধরি কিছু। আবার ভাবলাম না। এভাবে গেল গা আজকের মাছ ধরার কাহিনী। ভাবছি কাল আবার যাব। সব গুছিয়ে, একেবারে প্রস্তুত হয়ে যাব। দেখি মাছের একদিন নাকি আমার যে কয়দিন লাগে *_*

#বাবা খেতে ডাকছে। আজ আর হল না লেখা। দাবা খেলা আর কাব্যর দুষ্টামির কথা না লিখলে অপরাধী হয়ে যাব নিজের কাছে :'(
খেলা যখনই জমে যায় কাব্য এসে একটানে ছত্রভঙ্গ করে দেয় *_*

২৪/০৯/২০১৫

12/23/15

জ্বলে থাকে যে তারা

আসছে শরতে নিকষ কালো
স্বচ্ছ অমবশ্যায় মাঝ নদীতে
পাতাবাহারের মত ভাসতে ভাসতে
আজকের আকাশের তারা কি দেখতে পাব?

অনিশ্চয়তা খেলা করে চোখে-মুখে-বুকে
কতশতবার তবু
তারারা থামে না
আলো খেলা ছাড়ে না
'জ্বালা দিতে মালা নিতে,,,,'

বসে থাকে জৈষ্ঠ্যের ঝড় কখনো?
তোমার আকাশে কখনো ওঠে ঝড়?
পাখি সব মরে পড়ে থাকে কাশবনে
দেখতে গিয়েছি গত শতাব্দীর চারদেয়াল
পেরিয়ে একা একা;
চলছি,,,,,,

12/18/15

একজন আরজ আলী মাতুব্বর ও কিছু কথা

",,,,আরজ আলী মাতুব্বর শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের অহংকার ও আত্মতৃপ্তিকে শক্ত হাতে নাড়িয়ে দিয়েছেন।"
--হাসনাত আবদুল হাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বসে আছি। ক্লাস শেষে রোজই বসি। সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্ক পীড়া দেয়। চুপচাপ বই পড়ি এসে। কৈশোর পার হলেও ভাবটা যেন রয়ে গেছে। মনে আছে প্রথম বইটা ছিল জহীর রায়হানের 'আরেক ফালগুন'।

বাংলা সাহিত্যের শেলফ গুলোতে আমার চারণ বাড়তে থাকে। চয়ন হয় কত বই, পড়া হয় কতক। গোগ্রাসে ক'দিন শরদিন্দু আর সুনীল গিললাম। আক্ষরিক অর্থেই।

বইয়ের এ শেলফ থেকে ও শেলফ করতে করতে চোখে পড়ল আরজ আলী মাতুব্বর সমগ্র। চোখটা কুঁচকে তাকালাম। এ আবার কেমন নাম। এমন নামের লেখকের আবার সমগ্রও আছে!( আমি নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারিনে এমন চিন্তা করেছিলাম দেখে। নাম, মোলাট এসব দেখে বই, লেখক বিচার করা অমানুষের কাজ। 😫) যাই হোক সে বই আর ছুঁয়ে দেখলাম না।

এভাবে কেটে গেল বেশ কিছু মাস। সময় যায়, লাইব্রেরিতে যাই। কখনো রেফারেন্স রুমে তো কখনো সাহিত্য কর্নারে। আরজ আলী মাতুব্বরের কথা আর মনে পড়ে নি। তখনও মনে পড়ার মত যৌক্তিক কারণ এ অপরিণত মস্তিস্ক পায় নি।

একদিন। খুব মনে আছে। ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখি। আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে। মনে পড়ে যায় লাইব্রেরির সেই ঘটনা। একটানে পড়ে ফেলি। থমকে যাই। স্বশিক্ষিত এমন জ্ঞানী মানুষ সম্পর্কে সেদিন মনে জাগ্রত নিচু চিন্তা আমাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে থাকে। সাথে সাথে অভ্যাসবশত গুগোলে খুঁজি। যা পাই তাই পড়ি। আর ভাবি।

সন্ধ্যায় শহিদ মিনারে বসে আছি চুপচাপ। আগষ্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ। খুঁজে খুঁজে আরজ আলী সমগ্র পেলাম। পিডিএফ। তর সইছিল না। টানাপায়ে রুমে এসেই বেলকনিতে বসি।

ঘোর লেগে যাচ্ছে। মুহম্মদ শামসুল হকের জবানীতে প্রথমে আরজ আলী মাতুব্বরের জীবনী পড়ি। চরম থ্রিলার পড়লে যে অনুভূতিতে গায়ের রোম খাড়া হয় ঠিক তেমন ভাবে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। পড়তে হবে। লেখকের মূল লেখায় যাবার ত্বর সইছিল না, এদিকে শামসুল হকের লেখাও শেষ না করে ছাড়তে পারছিলাম না। বরিশাল কলেজ, দুজন শিক্ষক, একজন আরজ আলী, একজন বিদেশ ফেরৎ যুবক, প্রশাসনের হুমকি, পালিয়ে বই ছাপা,,,,,, ঘোর রেগে যাচ্ছিল।

কেরোসিনের ল্যাম্প দিয়ে যান্ত্রিক পাখা, বাঁশ পুড়িয়ে বাঁশি বানাতে পারা মাটির মানুষ আরজ আলীর ভক্ত হতে শুরু করলাম তাঁর লেখা না পড়েই। উত্তেজনায় সেদিন আর পড়া এগোল না।

পরদিন বন্ধুর মেসে গেছি এসাইনমেন্ট করতে। কথায় কথায় গল্প করছি। আরজ আলী সম্পর্কে শামসুল হকের লেখা 'কিছু কথা, কিছু স্মৃতি' সেদিনের গল্পের উপকরণ। কখন সকাল হল মনে নেই! সারারাত কেটে গেল। এসাইনমেন্ট আর করা হল না।

পড়ে ফেললাম 'সত্যের সন্ধান'। আরজ আলীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। জীবনের সত্তর বছর লাইব্রেরিতে কাটানো এই মানুষটা তাঁর প্রথম বইটি প্রকাশ করেন লেখার দুই যুগ পর। তাঁর জ্ঞান সাধনার সূত্রপাত বড় বেদনার। মা মারা যাবার পর ছবি তোলা হয়। ঘটনাটা গ্রামের মানুষ ভালভাবে নেয় না। মায়ের জানাজায় আসে নি গ্রামের মানুষ। কিশোর আরজের মনে পড়ে গভীর ছাপ। শুরু করেন সত্যের সন্ধান।

প্রশ্ন করা শুরু করেন। সমাজ, ধর্ম, কুসংস্কার নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর জানতে কঠোর লেখাপড়ায় ব্রতী হন। প্রতিটা প্রশ্ন তিনি বিচার করতেন ধর্ম ও বিজ্ঞানের সহাবস্থানিক বিবেচনায় এনে। আরজ আলী খেয়াল করলেন বিজ্ঞানই সত্য; ধর্মের ব্যাখ্যা কেবলই গালগল্প আর অন্ধবিশ্বাস।

সত্যের সন্ধান শিরোনামের নিচে লেখক আরেকটি শিরোনাম দিয়েছেন, 'লৌকিক দর্শন'। লোক সমাজে প্রচলিত অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের দিকেই ছিল তাঁর প্রশ্নবান। হয়ত তার জন্যেই এমন নাম।

মুখবন্ধে তিনি লিখেছিলেনঃ “আমি অনেক কিছুই ভাবছি, আমার মন প্রশ্নে ভরপুর কিন্তু এলোমেলোভাবে। আমি তখন প্রশ্নের সংক্ষেপণ লিখতে থাকি, বই লেখার জন্য নয় শুধুমাত্র পরবর্তীতে মনে করার জন্য। অসীম সমুদ্রের মতন সেই প্রশ্নগুলো আমার মনে গেঁথে আছে এবং আমি ধীরে ধীরে ধর্মীয় গন্ডি হতে বের হতে থাকি।”

তিনি এই বইটিতে দার্শনিক প্রশ্নগুলোর ৬টি শ্রেণীতে তার প্রশ্ন ও তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সেগুলো হলোঃ

প্রথম প্রস্তাবঃ আত্মা বিষয়ক। এই অংশে ৮টি প্রশ্ন।
দ্বিতীয় প্রস্তাবঃ ঈশ্বর বিষয়ক। এই অংশে ১১টি প্রশ্ন।
তৃতীয় প্রস্তাবঃ পরকাল বিষয়ক। এই অংশে ৭টি প্রশ্ন।
চতুর্থ প্রস্তাবঃ ধর্ম বিষয়ক। এই অংশে ২২টি প্রশ্ন।
পঞ্চম প্রস্তাবঃ প্রকৃতি বিষয়ক। এই অংশে ১১ টি প্রশ্ন।
ষষ্ঠ প্রস্তাবঃ বিবিধ। এই অংশে ৯টি প্রশ্ন।

প্রথম আটটি প্রশ্নে তিনি নিজের ভাবভঙ্গি ব্যক্ত করেন। যেমন -
১। আমি কে? (নিজ)
২। জীবন কি শরীরী বা অপার্থিব?
৩। মন এবং আত্মা কি একই জিনিস?
৪। জীবনের সাথে শরীর বা মনের সম্পর্ক কি?
৫। আমরা কি জীবনকে চিহ্নিত করতে পারি?
৬। আমি কি মুক্ত?
৭। মরণোত্তর আত্মা শরীর বিহীন জ্ঞান ধারণ করে? এবং সর্বশেষ,
৮। কিভাবে শরীররে আত্মা প্রবেশ করে ও বের হয়?

ঈশ্বর বিষয়ক অধ্যায়ের প্রশ্ন গুলো এমন
১। ঈশ্বরের রূপ কী? (ঈশ্বর শব্দের সমার্থক শব্দ নিজ দ্বায়িত্বে বসিয়ে নেবেন। কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগুক তা চাইনে।)
২। তিনি কি মনুষ্য ভাবাপন্ন?
৩। স্রষ্টা কি সৃষ্টি হতেই ভিন্ন?
৪। ঈশ্বর কি স্বচ্ছাচারী না নিয়মতান্ত্রিক?
৫। তিনি ন্যায়বান না দয়ালু?
"অন্যান্য ক্ষেত্রে যাহাই হউক না কেন, বিচার ক্ষেত্রে 'ন্যায়' ও 'দয়া' এর সমাবেশ অসম্ভব। কেননা দয়া করিলে ন্যায়কে উপেক্ষা করিতে হইবে এবং ন্যায় বজায় রাখিতে হউলে মায়া বিসর্জন দিতে হইবে।" বলা হয়ে থাকে ঈশ্বর(সমার্ধক বসিয়ে নিন) ন্যায়বান ও দয়ালু। কিভাবে সম্ভব? তবে কি তিনি কিছু ক্ষেত্রে ন্যায়বান কিছু ক্ষেত্রে দয়ালু?
৬। ঈশ্বরের অনিচ্ছায় কোন ঘটনা ঘটে কি?
৭। নিরাকারের(আত্মা) সাথে নিরাকারের(পরমাত্মা) পার্থক্য কী?
৮।নিরাকার পদার্থ দৃষ্টিগোচর হয় কিভাবে?
৯। স্থান, কাল ও শক্তি সৃষ্ট না অসৃষ্ট?
১০। সৃষ্টি যুগের পূর্বে কোন যুগ?
১১। ঈশ্বর কি দয়াময়?

#অনেকদিন ধরেই ভাবছি লিখব। আলস্যের কারণে হয়ে ওঠে না। আজ শিক্ষক, দার্শনিক, উদ্ভাবক আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বন্ধু। আমাকে তুমি প্রশ্ন করার সাহস দিয়েছ।

(চলবে,,,,,)

12/9/15

**অনুভব**

ইটেরাস্তায় হাঁটাহাঁটি
সেই যে তোমাদের অলিপথ
কাকের শব্দে পায়ে ত্বরা পাই
আনমনে হাঁটছি কতক্ষণ!

বাথরুমের ঘুলঘুলি বেয়ে
তোমার স্নানের ঘ্রাণ
আমার নাসারন্ধ্র কাঁপিয়ে যায়

আবার কাকের ডাক
থমকে যাই এবার

আচ্ছা, আমরা কখনো কাক হতে চেয়েছি?
অথবা কাকের মত স্বরে করেছি কি কিছু গান?
ভালবাসায় কাকের ডাকেও শান্তি ছিল
থাকে

তোমার চলে যাওয়ার পথে আজও কাক ডাকে
হাঁটি হাতে-মাথায়-বুকে কাক ডাকের একগুচ্ছ ইচ্ছে নিয়ে
তোমাদের অলিপথে
গলিপথে

তোমাদের পাড়ার ইটেরাস্তায়
চেনা কত ইটের দঙ্গলে ঢাকা
তোমার নতুন খেরোখাতার খেলাঘরের
আশেপাশের অলিপথে
গলিপথে।

**অনুভব**

ইটেরাস্তায় হাঁটাহাঁটি
সেই যে তোমাদের অলিপথ
কাকের শব্দে পায়ে ত্বরা পাই
আনমনে হাঁটছি কতক্ষণ!

বাথরুমের ঘুলঘুলি বেয়ে
তোমার স্নানের ঘ্রাণ
আমার নাসারন্ধ্র কাঁপিয়ে যায়

আবার কাকের ডাক
থমকে যাই এবার

আচ্ছা, আমরা কখনো কাক হতে চেয়েছি?
অথবা কাকের মত স্বরে করেছি কি কিছু গান?
ভালবাসায় কাকের ডাকেও শান্তি ছিল
থাকে

তোমার চলে যাওয়ার পথে আজও কাক ডাকে
হাঁটি হাতে-মাথায়-বুকে কাক ডাকের একগুচ্ছ ইচ্ছে নিয়ে
তোমাদের অলিপথে
গলিপথে

তোমাদের পাড়ার ইটেরাস্তায়
চেনা কত ইটের দঙ্গলে ঢাকা
তোমার নতুন খেরোখাতার খেলাঘরের
আশেপাশের অলিপথে
গলিপথে।

10/27/15

মরণ

আমি খুব ছোট কিছুর জন্যে মরব না,
ঘাস ফুল, পাখির গান কিংবা তেঁতুল পাতার ঘন আঁধারের জন্যে তো নয়ই-
আমি খুব বড় কিছুর জন্যেও মরব না,
চাঁদ পরিক্রমা, মঙ্গলে পদচারণা কিংবা পৃথিবীর নামকরা হেলেনার জন্যেও না।

আমি আমার মনের ইচ্ছেতে মরব।
অসাধারণ কিছুর জন্যে মরব।
হয়ত একটা চার্জার লাইট,
হয়ত কিছু ফেলে দেওয়া ব্যাটারির নষ্ট ভোল্টের জন্যে মরব,
হয়ত পাখির ঝরা পালকে ফুঁ দিয়ে উড়াতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাব চিরতরে......

10/17/15

কালি-ঝুলি মাখা পোড়ো বাড়িটা,,,,,,,

হাজার হাজার পঙ্গপালের পাতলা শব্দের সাথে অঞ্জনের এই গানটা মাথার মধ্যে কেমন ঘোরের সৃষ্টি করছে। সময় ফিরে ফিরে আসে। অতীত নিয়ে চর্চার জন্যে গান দায়ী হতে পারে। খেয়াল করে দেখেছি গান শুনলেই লিরিকে মনযোগ আসে না সব সময়। মন খারাপ বা একদম একাকী লাগার সময় গুলোতে লিরিক কানে এসে ঝড়ো বাতাস তুলে দেয়। মনে করিয়ে দেয় যত ফিরে ফিরে আসা খারাপ সময়গুলো।,,,,,,

9/25/15

একটি পঁচিশে সেপ্টেম্বর

কমলাপুর রেলস্টেশন। রাত আটটা বা নয়টা। সময় দেখার সময় ছিল না। মন ছিল পুরোপুরি বিক্ষিপ্ত। সাড়ে চার বছরের ফুলবাগান এক ঝড়ে ভেঙ্গে গেলে যতটা বিষ্ময় কাজ করার কথা তার চেয়েও বেশি বিষ্মিত ছিল ছেলেটা। সময়ের দিকে খেয়াল করার অবকাশ পায় নি সে।

প্রেমে পড়লে মানুষ পাগল হয়। প্রেম চলাকালীন মানুষ পাগল হয়। সবাই বলে। ছেলেটা বিশ্বাস করত। কারণ নিজেকে সে পাগল হিসেবেই দেখেছে। মেয়েটার প্রেমে পড়ার পর পাগল ছিল সে। প্রেম চলাকালীন পাগল ছিল সে। লোকে আরো বলত প্রেম ভেঙ্গে গেলে মানুষ পাগল হয়। ভয়ানক পাগল। ছেলেটা ঠিক বিশ্বাস করতে চাইত না। বলত ও কখনো ছেড়ে যাবে না। ঠিকই একটা না একটা কারণ খুঁজে নিয়ে পাশে থেকে যাবে। ঠিক যেমন থেকেছে সাড়ে চার বছর। সবাই না হাসলেও কেউ কেউ হাসত। হাসত মেয়েটাও, পরে জানা গেছে যদিও। ছেলেটার এহেন পাগলামী দেখে মেয়েটাও হাসত খুব। আর বলত কখনো ছেড়ে যাবে না। বিশ্বাস পাকাপোক্ত হতে থাকে। আরো একটু শান্তি লাগতে থাকে হৃদয়ে। শরতের আকাশে মেঘের সাথে ওড়ে কিছু সুখ। ছেলে মেয়ে দুটো যেন শরতের কাশফুল হয়ে যায় ক্রমশ।

একদিন হঠাৎ আসে মেসেজটা। সব কিছু শেষ। গত এক বছর ধরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে মেয়েটা। ছেলেটাকে গুছিয়ে নিতে বলে। ভাল থাকতে বলে। ছেলেটার বিষ্ষয় কাটে না। কাটতে চায় না। আগেও এমন মেসেজ এসেছে সব শেষ বলে। এমন কখনো লাগে নি। আজ যেন কিছু একটা বিষাদ লেগে আছে মেসেজে। পাগল হয়ে যায় ছেলেটা। ফোনের পর ফোন,,,,,,,,

কোন সাড়া নেই।
সাড়া আর থাকবে না এটা বুঝতে পারলে ছেলেটারই উপকার হত। নিজেকে শান্ত করতে পারত। সব কিছু কি আর মেসেজের লেখার মত সহজ হয়? হয় না। ছেলেটা দিশাহারা হয়ে ছুটতে থাকে। কোথায় যাবে জানে না। চলতে চলতে গিয়ে উঠল এক প্লাটফর্মে। না, নামল এক প্লাটফর্ম থেকে। নিচে, রেললাইনের ওপর। ট্রেন আসবে। প্রতারিত হবার চেয়ে মরা ভাল এই ফালতু যুক্তিই তখন তার কাছে ষোনার খনি।

কার জীবনে কখন কী ঘটে কে বলতে পারে। ট্রেনটা চলে যায়। গাইবান্ধার কোন এক পাগল তাকে বাঁচিয়ে দেয় আজকের এই লেখা লেখার জন্যে।

মেয়েটা সুখে আছে। ভাল আছে। থাকার কথা। ছেলেটা ভাল আছে। সুখে নেই। দুঃখেও নেই। শরতের আকাশে আছে। কাশফুলে আছে। শহিদ মিনারের ওয়ালে আছে। :-)

9/23/15

আমারও যে একলা লাগে

টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। টিনের চাল, শব্দ তাই অসাধারণ শ্রুতিমধুর।

এই সব দিনে ভাল লাগা গুলোও খারাপ লাগা হয়ে যায়। মনে পড়তে থাকে একগাদা ভিজে স্মৃতি। যন্ত্রণা বাজতে থাকে কানে। রোমান্টিসিজম ভাজতে গিয়ে মন বেচারা হাওয়ায় ওড়ে; আনন্দের নয়, আবেগে কেঁদে ফেলা ঝড়ো হাওয়ায়। তুফান বৃষ্টিতে পাখি যেমন চুপচাপ বসে থাকে, মন খারাপের ব্যক্তিগত অধিকারীটিও চার চালা টিনের চালের নিচে ধুম মেরে পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে বই উল্টায়, পছন্দের-অপছন্দের, প্রিয় মানুষের পছন্দের, কোথাও হঠাৎ শোনা ভাল বইটি। পড়া না হলেও এই সব দিনে বই জড়িয়ে কেঁদেকেটে পড়ে থাকা যায়। আসলে থাকতে হয়। উপায় কী!

পৃথিবীতে ভাল থাকার ওষুধ গুলো ক্রমে জীবন বাঁচানোর ওষুধে পরিণত হয়। সময়ের সাথে, ভালবাসার সাথে, ভালবাসা পাবার সাথে। বোঝা যায় ভালবাসা হারানোর সাথে, ভালবাসা বেড়ে যাবার সাথে। পরিমাপ করা না গেলেও ভালবাসা বেড়ে যাওয়া বোঝা যায় ক্রমশ কষ্টে নীল হয়ে যাবার সাথে। মিথ্যের দুনিয়ায় সত্যকে সত্য বলার মত সাহস হারানোর সাথে।

পণ করে ভাঙ্গা আমাদের আদিম অভ্যাস। নিয়মের বাইরে যাওয়া পৌরাণিক থেকে চলে আসছে। আদম ইভের পরে হাজার রাত-দিন-মাস-বছর মানুষ নিয়মের বাইরে গেছে, যাচ্ছে। কিছু নিয়ম আবার নিয়মের মাধ্যমে তৈরি হয় নি, তারা কেবল অনিয়ম অথচ নিয়ম!

বৃষ্টি থামছে না। বছর খানেক আগে এই সব দিনে মন খারাপ হত, ভয়ানক মন খারাপ। একা লাগত খুব। থাকতাম একা। বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। আবার সেসবের পূনরাবৃত্তি হচ্ছে। আটকাতে পারছি না। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াটা নাকি উত্তম কাজ। মাঝে মাঝে আফসোস লাগে আমি কখনো উত্তম হতে পারলাম না কেন! তাহলে অন্তত বৃষ্টির পথে মন খারাপ উড়িয়ে নিজেও সুখে থাকতাম। এমন ঝরঝর দিনে ক'দিন মন খারাপ করে থাকা ঠিক?

একজন অপরিচিতের কথা মনে পড়ছে। একটা বাস জার্নি। তার প্রেম কাহিনী বলে আমাকে অপরিচিতের গন্ডিতে পরিচিত বানিয়ে রেখে দিয়েছে। ফোন নাম্বার দিয়ে বলেছিল কথা বলতে, উইশ করতে। হারিয়ে ফেলেছি। তার জন্যে খারাপ লাগে। কথা রাখতে পারিনি।

একটা রেল লাইনের কথা মনে পড়ে, সেখানে কোন পাখি নেই। কাক ছাড়া। সবাই বলত। অথচ আমি জানি কাক একটা পাখিই। সবাই কাককে কাক বলে কেন? পাখি বললে কি অন্য পাখিদের জাত চলে যায়? কই তারা তো কখনো অভিযোগ করে নি! মানুষ কেন তাদের আলাদা করতে চায়? পাখিরা কথা বলতে পারে না বলে মানুষের অনেক সুবিধা। নিশ্চয়ই কাকেরা নালিশ করত আমার কাছে, ফুলের কাছে, গাছের কাছে, ইট-কাঠ-পাথরের কাছে।

রেল লাইনটা উঁচু, আর লম্বা। দুটো পাত চলে গেছে দিগন্তে। কাছে থেকেও কত দূরে তারা; তারা থেকে তারাদের দুরত্বও বুঝি অত না। সারা জীবন পাশে থাকা কাউকে ছুয়ে দেকতে না পারার দুঃখ কতটা? কথা বলতে পারলে রেল লাইন বলে দিত। আমি মাঝে মাঝে বুঝি। বৃষ্টির সময় বেশি বুঝি। ঠিক এখন। হয়তো দিগন্তে ছুয়ে দেখা যায়। কিন্তু সে দেখা কেবলই ঝাপসা।

ফিরে ফিরে আসা আমাদের ধর্ম। কারণ আমরা না মানি নিয়ম, না মানি পণ করা কথা।
বৃষ্টিও ফিরে ফিরে আসে। ফিরে আসে না যার আসার কথা। ফিরে আসে না যে কথা দেয়। ফিরে আসে না যে ভালবাসে। ফিরে আসে না যে স্বপ্ন দেখায়। ফিরে আসে তখন যখন আবার চলে যাবার সময় হয়; উল্টেপাল্টে দিতে হয় জীবন তখন। এবং আবারও ফিরে যায় সে। তারপর আবার একরাশ স্মৃতি, বৃষ্টি, কাক, বই, রেল লাইন,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

9/16/15

কিছু প্রশান্তির খোঁজে

দেখা যাক কোথায় গিয়ে থামি
কোথায় গিয়ে নামি।
উঁচুতে উঠলামই বা কবে,
নামার ভয়ই বা আসবে কেন?
তবুও রয়ে যায় কিছু দ্বিধা,,,,,,

9/13/15

ভ্যাট অন এডুকেশন ও কিছু কথা

ফ্রয়েডীয় দর্শনমতে মানুষের মৌলিক চাহিদা দুটি। খাদ্যের চাহিদা, যৌন চাহিদা।

সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মৌলিক চাহিদার বাস্তবিক বিস্তার বেড়ে যায়। পরিবর্তিত হয়। যে সভ্যতা যত এগিয়েছে তার সভ্যদের চাহিদা তত বেড়েছে। সেই সাথে কিছু চাহিদা হয়ে গিয়েছে আবশ্যিক। বস্তুত আবশ্যিক হবার পেছনে কারণ কিন্তু সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রাচীন সভ্যতায় খাবার পেলে মানুষ ভাবত তার চাহিদা পূরণ হয়েছে। ভাবনাটা তখন এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। আস্তে আস্তে এর সাথে যোগ হতে থাকল বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা। তবে যৌন চাহিদাকে আর কোন সভ্যতাই মৌলিক চাহিদা রূপে প্রচার করতে চাইল না। তা হয়ে গেল ট্যাবু।

বাংলাদেশের যে অবস্থান তাতে এই উন্নয়নশীল দেশের প্রধাণ মৌলিক চাহিদা গুলোর প্রথমেই থাকে শিক্ষা। শিক্ষাই পারে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের কাতার থেকে বের করে আনতে অপরিণত মস্তিষ্কজীবী কিছু মানুষ শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে। ভ্যাটের ডেফিনেশন এমন যে বিনিময় যোগ্য কোন কিছুর জন্যে অর্থের লেনদেনে সরকারকে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করতে হবে। প্রতিটা ট্রানজেকশন হবে সরকারের আয়ের উৎস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা কি শিক্ষা ক্রয় করছে? উত্তর না হলে কেন তারা ভ্যাট দেবে?

আমার খারাপ লাগে তখনই যখন ভাবি পুরো পৃথিবী তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা পেছনে পড়ছি না শুধু, পিছলে যাচ্ছি অবনতির দিকে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে লজ্জ্বা পাই যখন দেখি আমাদেরই প্রতিবেশি রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় শিক্ষা, চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আর আমরা শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পায়তারা করি!

#শিক্ষায়_ভ্যাট_বন্ধ_কর
মৌলিক অধিকার নিশ্চিত কর

9/9/15

একজন গনিতবিদ

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন চমৎকার ছাত্র। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের রেকর্ড মার্কস তাঁর ছিল যতদিন পর্যন্ত এ এফ মুজিবুর রহমান নামে মেধাবী ও ক্ষণজন্মা মানুষটি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন নি।

মাত্র ৪৮ বছরের সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ এক জীবনের নাম এ এফ মুজিবুর রহমান(২৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৭- ১২ মে ১৯৪৫)। জন্ম ফরিদপুর জেলায়। পড়াশুনা ফরিদপুর জিলা স্কুল, ঢাকা কলেজ। মাস্টার্স করেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত রেকর্ড ভেঙ্গে দেন। তিনি পড়েছেন balliol college ofoxford university তে।

রহমান সাহেব ছিলেন ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট জজ(১৯২৯-৩১)। ন্যায়ের মত ও পথ ছিল তাঁর এগিয়ে চলার সাথী।

এ এফ মুজিবুর রহমানের সম্মানার্থে তাঁর ছেলে রেজাউর রহমান গড়ে তোলেন দাতব্য সংস্থা AF MUJIBUR RAHMAN FOUNDATION। ১৯৮৫  সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। ব্যবস্থা করেছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, পুরস্কার ইত্যাদি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগগুলোতে চালু আছে শিক্ষাবৃত্তি।  এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের IBA, INSTITUTE OF CHARTERED ACCOUNTANTS OF BANGLADESH, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয় বিশেষ বৃত্তি।

বাংলাদেশ ম্যাথম্যাটিকাল সোসাইটি আয়োজিত national mathematics undergraduate olympiad এর সার্বিক আর্থিক সহায়তা আসে এ এফ ফাউন্ডেশন থেকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত গনিত ভবনটিও এই ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে নির্মিত।

কিছু অসংলগ্নতা

আঁধারের মত স্বচ্ছ আর কি কিছু আছে?
গাঙের ধারে বেড়িবাঁধ উপচে পড়া আঁধারের চাইতে স্বচ্ছ কিছু?
দিনের আলোয় লুকিয়ে থাকা তারার মেলা দেখি,
রাতের আকাশে। স্বচ্ছ আঁধারে।
ভাবনা চলে যাচ্ছে আলোর বেগে দূরে,
কেন এমন হয়? পাখির ডানার মত বাতাস কেটে এগিয়ে যায় তারা,
ভাবনারা।

হাজার বছরের পাখির ডাক ভেসে আসছে কানে,
চোখে ধরা দিচ্ছে অব্যক্ত দ্বিধা;
পাগল হয়ে যাচ্ছি না তো!

শরতের আকাশ মেঘমুক্ত কেন?
রাশি রাশি তুলোর পাহাড় পালিয়েছে কোথায়?
নাকি বুঝিয়ে দিচ্ছে পাল্টে যাচ্ছি দ্রুত,
সব ভাবনা-অভাবনা সাথে নিয়ে
স্বচ্ছ আঁধারের সমান্তরাল পথে
যার কিনারা কেউ কখনো পাবে না,,,,,,,,,,

কোন একদিন

সময়টা বড্ড খারাপ যাচ্ছে শিমুলের। একে তো মস্তিস্কের স্মৃতিরক্ষার লোবের এক চতুর্থাংশ অক্ষম হয়ে গেছে গত পরশু সন্ধ্যায়, আজ ঠিক এই সময়টাতেই তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল খুলে পড়ে গেল!

হাতটা স্টেইনলেস স্টিলের সাথে কার্বন ফাইবারের সূক্ষ সংকরে তৈরি পদার্থ দিয়ে বানিয়ে দিয়েছিলাম গত মাসে। কাহিনীটা অবাস্তব ঠেকলেও সত্যি।

আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে নিয়ম মাফিক হাঁটতে বেরিয়েছিলাম ছোট্ট শহর সলসমারসির ইলেক্ট্রনিক্স সিঙ্গেল ট্রাক রাস্তা তে। রাস্তাটা বানানো হয়েছিল মূলত পথচারীদের শ্রম কমিয়ে সময় সাশ্রয় করাতে। শাটল ট্রেন বা বাসের মতই এটি কাজ করত। পাঁচশ মিটার পরপর জেনোপ্লেস আছে রাস্তাটার যেখান থেকে রাস্তায় ওঠা যায় এবং রাস্তা চলতে থাকে। গতিবেগ মানুষের হাঁটার স্বাভাবিক গতির দ্বিগুন।
কিন্তু ক্রমে বিদ্যুতের ঘাটতিতে অফ করে দেওয়া হয় রাস্তাটা।
এখন এই রাস্তায় সবাই মর্নিং ওয়াক করে।

তো শিমুলের কথায় ফেরা যাক। পাঁচ বছর আগের সেই দিনটা আমার স্পষ্ট মনে আছে 2051 সালের ১০ জানুয়ারি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর চরম প্রভাবে শীত তখন নেই বললেই চলে। হাঁটছি আর আমার হাতে থাকা একটা প্রোজেক্ট নিয়ে ভাবছি, কি করে মানব মস্তিস্কের স্মৃতিধারন কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায় অসীম পর্যন্ত।

হঠাত্‍ একটা মোড় নিতেই দেখি সোলার ডাস্টবিনের পাশে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর নিথর দেহ।
দৃত তুলে নিলাম কোলে, হ্যাঁ বেঁচে আছে। বিষ্মিত হলাম চল্লিশ বছর আগের মত আজও এমন কান্ড ঘটে!
যা হোক প্রথমে কল করতেই একটা ডেস্কো এলো যা এম্বুলেন্সের মতোই তবে চালক বিহীন। রোগীকে উঠিয়েই নির্দেশকে চাপ দিলাম হোম অফ প্রফেসর শঙ্কু।
ব্যস কয়েক মিনিটেই পৌছে গেলাম বাড়িতে।

এরপর চিকিত্‍সার দায়িত্ব দিলাম রোবট মায়ানথাল এর কাছে। ও চার দিনেই মোটামুটি সুস্থ করে দিল বাচ্চাটাকে। বাচ্চাটার মাথায় সামান্য কয়েকটা লাল চুল ছিল তাই শিমুল নাম রাখা হল। এরপর প্রথা অনুযায়ী সাধারন নাগরিকদের মতো ওকেও সেমি রোবটে পরিনত করার সময় এসে গেল। আমি ওর যাবতীয় প্রোগ্রাম করে দিলাম একটা মাইক্রো চিপে এবং তা ছোট্ট অপারেশন করে ওর দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া গেল। এরপর আমার প্রোজেক্টের পরীক্ষা ওর ওপরেই খাটালাম।
প্রোগ্রাম করার সময় একটা বিশেষ পরিসংখ্যান তত্ব ওর চিপে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম যাতে ও অতি দ্রুত হিসাব করতে পারে এবং তা সংরক্ষন করতে পারে।
শহরের পাঁচ হাজার জনসংখ্যার ফুল ডাটা আমি ওর ব্রেইনে প্রবেশ করিয়ে দিলাম।

এভাবে চলল ওর ওপরে গবেষণা প্রায় পাঁচ বছর এবং গত পরশু ও নিজে নিজে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ডাটা বিন্যস্ত করতে গিয়ে স্মৃতি মস্তিস্কের এক চতুর্থাংশ অকেজো করে ফেলে আর আজ তা বুঝতে পেরে বেচারা রেগে মেঝেতে কার্বনেডোর পাতে ঘুষি মারতেই আঙ্গুলটা ভেঙ্গে ফেলে।

আমি চিন্তা করছি এবার আরো স্থিতিস্থাপক কিছু দিয়ে ওর আঙুল বানিয়ে দেব।